একুশের অণুগল্প
আলোক মণ্ডল
মা বললেন, আমার রোহন, শুধু দুষ্টুমিই করে না। সবেতেই ভালো পারফর্ম করে।
স্পোর্টসে দারুন। জিমনাস্টিক, সুইমিং সবেতেই। আজ একুশে ফেব্রুয়ারি, সকাল থেকেই রিসাইট করছে-
বাংলা ভাষা উচ্চারিত হ'লে নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ...
অনুষ্ঠানের পর স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতেই রোহনের মা প্রতিবেশী পরিবেষ্টিত হয়ে জানতে চাইল- হাউ ডিড ইউ পারফর্ম, মাই চাইল্ড? রাহুল বলল, ও হো, ম্যাম, ইটস নট দ্য বেস্ট, জাস্ট বেটার।
বিকজ দ্য প্রনাউনসিয়েশন অব বেঙ্গলি ইজ টু মাচ ডিফিকাল্ট! কাইন্ডলি মম, এ্যারেঞ্জ এ গুড টিউটার, হু ক্যান টিচ মি বেঙ্গলি!
মা বললেন, ইটস, ও কে, পারফর্মের জন্য যতটুকু... বাট, তোমায় বাংলা না শিখলেও চলবে, হায়ার স্টাডিজে তো বাংলা নেই।
একুশের সকাল, বিকেল পেরিয়ে বাইশের দিকে গড়িয়ে গেল।

অনেক শুভেচ্ছা জানাই আমার লেখা প্রকাশ করার জন্য।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ।
মুছুনএক কথায় "চমৎকার"।
মুছুনথিমটা সেই বাঙলা কবিতাটা, আমার ছেলের বাঙলাটা ঠিক আসেনার মতো চিত্তাকর্ষক।
ভাল।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শহর নগরের সঙ্গে থাকুন।
মুছুনখুবই বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। বর্তমানে অতি আধুনিকতার তথাকথিত উঁচু শ্রেণীর মানুষ নিজের মাতৃভাষায় কথা বলতে ও কুণ্ঠাবোধ করে। আজ মাতৃভাষা দিবসে খুব ই প্রাসঙ্গিক , খুব ভালো লাগলো 🙏
উত্তরমুছুনআমাদের সংস্কৃতির ও সময়ের সংকট গল্পে প্রতিফলিত
উত্তরমুছুনমন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
মুছুনজানেন দাদা, আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না। ভবানী প্রসাদ মজুমদার এর কবিতার প্রতিচ্ছবি।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ।
মুছুনসোমনাথ : বাঙালি পরিবারে জন্ম নিয়ে এবং পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করার সুত্রে বাংলা ভাষা ঠিকমতো বলতে, বুঝতে বা লিখতে না পারাটা সত্যিই দুঃখজনক।
উত্তরমুছুনমন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
মুছুনএগুলো নিয়ে কজন চিন্তাভাবনা করে?তবুও একুশে ফেব্রুয়রী উদযাপিত হয় বাৎসরিক একটা অনুষ্ঠান হিসাবে।
উত্তরমুছুনআলোক মণ্ডলের এই ছোটগল্পটি খুব ছোট হলেও ভাবনার গভীরতা আছে। গল্পটি একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে লেখা। সকালে রোহন বাংলা ভাষা নিয়ে সুন্দর আবৃত্তি করে। সবাই গর্বিত হয়। মনে হয়, সে বাংলা ভাষাকে খুব ভালোবাসে।
উত্তরমুছুনকিন্তু অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরে দেখা যায় অন্য ছবি। রোহন বাংলাকে কঠিন বলে জানায়। সে ভালো ইংরেজি টিউটর চায়, যাতে বাংলা শিখতে পারে ঠিকভাবে। তার মা-ও বলেন, উচ্চশিক্ষায় তো বাংলা লাগবে না। এখানেই গল্পের আসল কথা লুকিয়ে আছে।
লেখক দেখাতে চেয়েছেন, আমরা অনেক সময় শুধু বিশেষ দিনে বাংলা ভাষাকে মনে করি। কিন্তু প্রতিদিনের জীবনে বাংলাকে গুরুত্ব দিই না। একুশের আবেগ খুব তাড়াতাড়ি ফিকে হয়ে যায়।
গল্পের শেষ লাইনটি খুব অর্থপূর্ণ। একুশের সকাল কেটে বাইশে পৌঁছে যাওয়া মানে, ভাষা দিবসের অনুভূতি খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া।
সহজ ভাষায় বলা যায়, এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শুধু অনুষ্ঠান নয়, বাংলা ভাষাকে সত্যিই ভালোবাসতে হবে প্রতিদিন।- বিপত্তারণ ধীবর।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। নিয়মিত শহর নগরের সঙ্গে থাকুন।
মুছুনবর্তমান সময়ে বাংলাভাষার অস্তিত্ব নানাভাবে বিপন্ন । এই বিপন্নতা তথা সংকটের অন্যতম একটি কারণ সুদক্ষভাবে তুলে ধরেছেন । এই নিপুণ প্রয়াস প্রশংসনীয় । বাংলাভাষার জয় হোক । আপনার লেখনী বেগবতী নদী হোক ।
উত্তরমুছুনমন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
মুছুনভীষণ সুন্দর
উত্তরমুছুনধন্যবাদ।
মুছুনমাতৃভাষা দিবস, থুড়ি, ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ডে নিয়ে আলোকদার অণুগল্পটি পড়ে এনজয় করলাম, এক কথায় amazing! মেঘ মুখোপাধ্যায়
উত্তরমুছুনভালো। অল্প কথায় বাংলা ভাষার পক্ষে দাঁড়িয়ে
উত্তরমুছুনজোরালোভাবে সোচ্চার হয়েছ।
তবে বাংলা বা ইংরেজী ভাষা শেখার জন্য যে উদ্যোগ বা
পরিকাঠামো দরকার তা তো লুপ্তপ্রায়। বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা সে তো অবশ্যই দরকার। তা না হলে রেনেসাঁ থেকে এ পর্যন্ত বাংলার ঐতিহ্য
এ সময়ের ছেলেমেয়েরা জানবে কি করে?
তবে যাদের সাধ্যি আছে তাদের অনেকেরই বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা থাকলেও বাধ্য হয়ে ইংরেজি শেখার জন্য ঝুঁকতে হচ্ছে আর
বেসরকারি বিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের পাঠাতে হচ্ছে।কারণ কাউকে চাকরির জন্য বেঙ্গালুরু বা অন্য রাজ্যে চাকরি করতে হলে তো ইংরেজি ভালোভাবে রপ্ত করতে হয়। বাংলা মাধ্যম সরকারি স্কুলগুলির দিকে তাকালে দুরবস্থার ছবিই ভেসে উঠে।শোনা যাচ্ছে কয়েক হাজার সরকারি স্কুল উঠে গ্যাছে।
অনেক বাধা সত্ত্বেও তবুও বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও
ভালোবাসা জরুরি।
সেদিক দিয়ে তোমার লেখাটি খুবই গুরুত্ব রাখে। এর জন্য তোমার প্রসংশা প্রাপ্য। দিলীপ চন্দ।