কোভিডকালের গল্প
ভজন দত্ত
- অ্যায়! ছেলে তো এখন পড়ছে! ওটা শেষ না করে ও এখন উঠবে না। চ লো না…
- কী মানুষ তুমি গো! শুনছো নীচে মা ডাকাডাকি করছেন! ঘরের যাবতীয় কাজ, রান্না পড়ে আছে! এদিকে মাছ মাংস একসঙ্গে এনে হাজির করেছো।
- লকডাউনে বাজারে গেছো! মানুষ প্রোটিনের জন্য হামলে পড়ছে! যে ডিম পাঁচ টাকা করে এনেছি, তাই এখন আশি টাকা ডজন!
- শোনো, তেতলার চিলেকোঠায় একবার চলো,জরুরি… এত টেনশন! ভালো লাগে না… বলি আমিও তো একটা মানুষ না-কি!
- আঃ! আস্তে আস্তে। ছেলে বড়ো হচ্ছে। বাবুর শখ এখনো কত! এখন আমার অনেক কাজ… একটু বোঝার চেষ্টা করো..
- ঠিক আছে। তুমি যখন যাবে না ঠিক করেছো তখন একাই দায়িত্ব পালন করতে হবে! ঐজন্যই বলে, যেচে মানুষের ভালো করতে নেই..
- থাক বিয়ের আগে থেকেই ঢের ভালো করেছো, আর ভালো করতে হবে না। আমি বাবুর ঘরটা গুছিয়ে,মুছে নীচে মায়ের সঙ্গে রান্নায় যোগ দেবো। সকাল থেকে এত কাজ, তারমধ্যে বাতাসীদিকেও আসতে বলতে পারছি না…
- তুমি যাবে না যখন, তখন আমিই যাই। কে জানে, তিনি না খেয়ে আছেন কতক্ষণ!
- কে না খেয়ে আছে?
- বৌদিকে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করে তোমার দাদা এসেছেন, তিনিই বলেছেন, কাউকে কিছু না বলতে।কী করবো! উনি নিজেই চিলেকোঠার ঘরে থাকতে চাইলেন। বললেন, এসময় বেশি মেশামিশি না হওয়াই ভালো… তাই বলছিলাম, যদি একবার ওঁর সঙ্গে দেখাটা করে নিতে…
.....
(শব্দ সংখ্যা -২০০)

মতামত পেলে ভালো লাগে।
উত্তরমুছুনভালো লাগলো।
উত্তরমুছুনভালো লাগল।তবে ঠিক মন ভরল না।যদি জিজ্ঞেস করেন-কেন?উত্তরে বলব-এত বর্ননা
উত্তরমুছুনজরুরী ছিল না।একন্নবর্তী পরিবারের মধ্যে
স্ত্রীয়ের সাথে কথোপকথনটা একটু বেশি হয়ে
গেছে।ওটা কম হলে হয়ত আমার মতে(অন্যের
কথা বলব না) আরো জমাটী হত।