সংস্কৃতি সংবাদঃ চিকিৎসক দিবসে পূণ্যশ্লোকের শ্রদ্ধাঞ্জলি

 চিকিৎসক দিবসে পূণ্যশ্লোকের অনন্য চিকিৎসক সন্ধ্যা

শহর নগর প্রতিবেদন, বাঁকুড়াঃ গত বছর চিকিৎসক দিবসের মঞ্চে আত্মপ্রকাশ, সেই অর্থে এবার বর্ষপূর্তি, পূণ্যশ্লোকের ডক্টরস্ উইংয়ের। বর্তমান জটিল সময়ে চিকিৎসকের পেশার বাইরে নবীন প্রবীণ একঝাঁক চিকিৎসক যখন জেলা শহরের রবীন্দ্রভবনের মতো এক সাংস্কৃতিক মঞ্চ আলোকিত করে দর্শকদের মন জয় করে নেয় তখন সব অসুস্থতার অবসান ঘটে যায়।ভগবানতুল্য একজন চিকিৎসককে মূহুর্তে শয়তান বানিয়ে তার গায়ে হাত তুলতে বাধে না। তাই চিকিৎসক দিবসে তাঁদের অনেকেরই আর্তি কোন একজন চিকিৎসককে ভগবান কিম্বা শয়তান নয়, তাঁকে মানুষ ভাবুন একজন বন্ধু মনে করুন। গত ১লা জুলাই বাঁকুড়া রবীন্দ্রভবন মঞ্চের দখল নিয়েছিলেন জেলার চিকিৎসা ক্ষেত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্রেরা। এদিনের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার শুরুতে বর্ষীয়ান চিকিৎসক স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রাক্তন বিশেষ সচিব অধ্যাপক ডাঃ মনোজ চৌধুরী, ডাঃ অমিতাভ চট্টরাজ, বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুণ্ডু, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ডাঃ রামানুজ দাসগুপ্ত, ডক্টরস্ উইংয়ের সভাপতি ডাঃ জীতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সম্পাদক ডাঃ পার্থপ্রতিম মণ্ডল প্রমুখ প্রদীপ জ্বালিয়ে ও ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের প্রতিকৃতিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত সকল চিকিৎসককে ও পূণ্যশ্লোকের কর্ণধার প্রণতি সেনগুপ্তকে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে বরণ করে নেওয়া হয়। 

দিনটির তাৎপর্য, বাঁকুড়া জেলার সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ও বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং জেলার প্রথিতযশা প্রয়াত চিকিৎসকদের শ্রদ্ধা জানিয় মনোজ্ঞ আলোচনা করেন ডাঃ অমিতাভ চট্টরাজ। তিনি বলেন বাঁকুড়া থেকে প্রতি বছর অনেক মেধাবী ছাত্র ডাক্তার হয়ে চিকিৎসকের পেশায় আসছেন। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় তাঁরা সারা দেশে এমনকি বিদেশেও সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁদের উদ্দেশ্যে সব ভুললেও শিকড়কে ভুলে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে বাঁকুড়া জেলার যে সুনাম তা যেন অটুট থাকে এটা দেখতে হবে।  তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তি স্মরণ করে বলেন 'সাধারণ মানুষের উদ্যোগে বাঁকুড়ায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন  সমগ্র বাঙ্গালী জাতির অহংকার'। আর মহাত্মা গান্ধী একে বলেছেন 'ইট ইজ এ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট'। অনুষ্ঠানে ডাঃ মনোজ চৌধুরী, ডাঃ জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডাঃ পার্থপ্রতিম মণ্ডল বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দুর্গাপুরের একটি বেসরকারী হাসপাতালের কর্ণধার খ্যাতনামা চিকিৎসক ডাঃ অরুনাংশু গাঙ্গুলী অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে না পারায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য রাখেন। ডাঃ দোলা মণ্ডল সেনগুপ্তর স্তোত্র পাঠ অনুষ্ঠানে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

ডাঃ সুবর্ণ গাঙ্গুলী, ডাঃ হিমাদ্রী পাল, ডাঃ আদিত্য সরকার, ডাঃ দেবজ্যোতি সাঁতরা, ডাঃ শ্রেষ্ঠা গাঙ্গুলী, ডাঃ স্বরূপ পাল, ডাঃ প্রিয়দর্শী সেনগুপ্ত সহ একঝাঁক তরুণ ও প্রবীণ চিকিৎসক আবৃত্তি, গান, নাচ সহ নানান সাংস্কৃতিক উপস্থাপনায় মুগ্ধ করেন উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন মাধ্যমে কমিকসের উপর মনোমুগ্ধকর আলোচনা করেন ডাঃ সায়ন পাল। উল্লেখ্য ডাঃ পাল দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যের এই  ধারায় বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। প্রায় চার ঘণ্টা ব্যাপী এই মনোরম চিকিৎসক সন্ধ্যার সুচারু সঞ্চালনা করেন সংগঠনের অন্যতম কর্মকর্তা ডাঃ প্রিয়দর্শী সেনগুপ্ত।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন