ধারাবাহিক প্রবন্ধঃ অগ্নিশপথ - ২৮ () সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

 অগ্নিশপথ

সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

অরবিন্দ ঘোষ 

(স্বাধীনতা' - শৈশব থেকে এই একটা শব্দ যে আবেগ, যে অনুভূতির সৃষ্টি করে, দিনে দিনে তা কেমন যেন বদলাতে শুরু করে। সময়ের সাথে সাথে রাজনৈতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের বদলের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা না থাকলে স্বাধীনতার স্বাদ অধরাই থেকে যায়। এখন আবার কে কতো বড় সেক্যুলার তার প্রমাণ করার প্রতিযোগিতায় ধর্মের দণ্ড হাতে ক্ষমতা ধরে রাখার এই যে নিরন্তর প্রচেষ্টা তা আমাদের দেশের স্বাধীনতার জন্য অগ্নিযুগের আন্দোলনকে কলুষিত করছে, রাষ্ট্রের পরিবেশকে চরম আঁধারপথে ঠেলে দিচ্ছে। এই অন্ধকারময় সময়ে একটু আলোর সন্ধানে আমরা ফিরে দেখি অগ্নিযুগের সেই আগুন পাখিদের কর্মকাণ্ড। গত ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ ধারাবাহিক প্রবন্ধ - 'অগ্নিশপথ'। লিখছেন প্রিয় সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।  প্রতি রবিবার প্রকাশিত হচ্ছে এই ধারাবাহিকটি। আজ  আটাশ  পর্ব - সম্পাদক ।)  

মেডিক্যাল কলেজে পড়া না হলেও ছোট বেলা থেকেই তাঁর ছিল শিল্পচর্চার নেশা। ভালো ছবি আঁকতেন হেমচন্দ্র। তারই সুবাদে কলকাতার গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলে এবং বউবাজারের আর্ট গ্যালারিতে চিত্রশিল্প বিদ্যায় শিক্ষালাভ করেন । এখান থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে মেদিনীপুরে ফিরে আসেন এবং এখানকার মর্যাদাপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী কলেজিয়েট স্কুলে অঙ্কন বিদ্যার শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরই পাশাপাশি মেদিনীপুর কলেজে রসায়ন বিভাগের ডেমনস্ট্রেটর পদে যোগদান করেন। আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও সংসারের ব্যয় নির্বাহের জন্য মেদিনীপুর জেলা বোর্ডের পদস্থ কর্মী হিসেবে চাকরিতে জয়েন করেন। এই ভাবেই কর্মব্যস্ততার সঙ্গে দিন কেটে যায়। তখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের গণজাগরণ। এই বিপ্লববাদের কেন্দ্রভূমি হয়ে উঠেছিল বীরভূমী মেদিনীপুর। একদিকে অহিংস আন্দোলন এবং অন্যদিকে সশস্ত্র বিপ্লবের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে অখন্ড বাংলাদেশের কোনায় কোনায়। সিক্রেট মিশন বা গুপ্ত সমিতির খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলো যুগান্তর, অনুশীলন সমিতির মতো আগুনখেকো সংগঠন। রাধানগর পল্লীর তিরিশ একত্রিশ বছরের দামাল ছেলে হেমচন্দ্র চুপ করে বসে থাকতে পারেন নি। নিজের চোখ কান দিয়ে দেখলেন শুনলেন - দলে দলে পথে নেমেছেন তরুণ তরতাজা প্রাণ। তাঁরা মাতৃমুক্তি সাধক। জেনেছেন অরবিন্দ বারীন্দ্রদের গোপন নেটওয়ার্কের কথা। কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ঋষিকল্প‌ রাজনারায়ণ বসু, জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসু হলেন বিপ্লববাদের অন্যতম পুরোধা। তাঁরা আবার অরবিন্দ বারীন্দ্রদের দাদু। ১৯০২ সালে এমনই একদিন  মেদিনীপুরে এলেন বিপ্লববাদের অগ্নিপুরুষ অরবিন্দ। হেমচন্দ্র সেই বিশেষ সভায় হাজির থেকে শুনলেন অরবিন্দের আগুন ঝরে পড়া বিপ্লবাত্মক অভিভাষণ। একদম কাছ থেকে দেখলেন তাঁকে। দেশ ও জাতির কল্যাণে এই আবেদন হেমচন্দ্রকে মথিত করে তুলল।

চলবে 

1 টি মন্তব্য:

  1. বড় ছোট হয়ে যাচ্ছে।পড়তে পড়তে মনের মাঝে চিত্র কল্পনা করার সাথে সাথে শেষ হয়ে যাচ্ছে।হচ্ছে তো দারুন।
    অতনু চট্টোপাধ্যায়

    উত্তরমুছুন