এক টুকরো কাপড়
শ্যামলী দাস
শরীরে জ্যোৎস্না মেখে রাতের জোনাকি আলো দিতে বেরিয়েছিল,
সমাজের আলো, প্রগতির আলো, উন্নতির আলো, সেবার আলো।
আলোর শরীরে হায়নাদের আঁচড় ছবি আঁকা হয় সীমাহীন বর্বরতার।
জোনাকির মেয়ে মেয়ে শরীরে
হেঁটে চলা বুটের পাশবিক শব্দ ভেসে যায় পাহাড় পর্বত ভেদ করে গুহার গহ্বরে।
খোদাইচিত্রে বর্ণিত হয় আদিম নারীজন্মের কাহিনি।
দাঁত, নখ, আর শক্তির আক্রমণ অত্যাচার যখন শিখর স্পর্শ করে!
আবারও মনে করিয়ে দেয়, অমানুষ পৌরুষহীন বর্বরতার পৈশাচিক অবস্থান।
মনে করিয়ে দেয়, নিভে গিয়েও ফিরে ফিরে জ্বলে ওঠার জোনাকি জীবন।
আর ঠিক তখনই নেমে আসে দুর্নিবার জলপ্রপাত, অপ্রতিরোধ্য ঢেউ,
ভাসিয়ে নিয়ে যায় সভ্যতার সব অহংকার,
দুলিয়ে দেয় বসুন্ধরার ভিত, টেনে তুলে আনে নৃশংসতার শিকড়।
মানুষের ঢল নামে গ্রামে- গঞ্জে, শহর, অরণ্যে
মানুষ আজ এক টুকরো কাপড়ের খোঁজে; অভয়াদের লজ্জা ঢাকতে নয়,
নির্ভয়াদের শরীর ঢাকতেও নয়, তিলোত্তমাদের অপমান ঢাকতে নয়।
এক টুকরো কাপড় চাই, উলঙ্গ সমাজের লজ্জা ঢাকতে।
রিক্ত মনের পৈশাচিক ক্ষত ঢাকতে।
এক টুকরো কাপড়ের খোঁজে, আজ মানুষ ঘর ছেড়ে পথে।
সঙ্গের ছবিঃ ১৪ আগস্টের রাত্রি, বাঁকুড়া

হৃদয় মথিত লেখা।
উত্তরমুছুনআন্তরিক প্রতিবাদের লেখা।মর্মছোঁয়া।
উত্তরমুছুনএই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।
উত্তরমুছুনসময়োচিত প্রতিবাদের কবিতা, ভালো লাগলো।
উত্তরমুছুনজ্বলন্ত প্রতিবাদী লেখা.....লেখনীর গভীর বার্তা ছুঁয়ে গেল মন।
উত্তরমুছুন