এই সময়ের কবিতাঃ এক টুকরো কাপড় () শ্যামলী দাস

 এক টুকরো কাপড়


(ভারতবর্ষের ইতিহাসে বিরল থেকে বিরলতম ঘটনাটি ঘটে গেল রামমোহন বিদ্যাসাগর রবীন্দ্রনাথের কলকাতা শহরে। রাজ্যের বিখ্যাত সরকারি হাসপাতালে কর্মরত তরুণী চিকিৎসক খুন ও ধর্ষনের এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে পথে যখন নেমেছে গোটা দেশ, তখন ঘটনার প্রমাণ লোপাটের চেষ্টায় স্বাধীনতা দিবসের মধ্যরাতে আর জি কর হাসপাতালে তাণ্ডব চালালো একদল দুর্বৃত্ত। স্তম্ভিত সারা বিশ্ব। ঘটনার প্রতিবাদে শহর নগর ব্লগজিনের জন্য কলম ধরছেন কবি সাহিত্যিকরা । আজ কবি  শ্যামলী দাসের কবিতা। - সম্পাদক

শ্যামলী দাস 

শরীরে জ্যোৎস্না মেখে রাতের জোনাকি  আলো দিতে বেরিয়েছিল, 

সমাজের আলো, প্রগতির আলো, উন্নতির আলো, সেবার আলো। 


আলোর শরীরে হায়নাদের আঁচড় ছবি আঁকা হয় সীমাহীন বর্বরতার। 

জোনাকির মেয়ে মেয়ে শরীরে 

হেঁটে চলা বুটের পাশবিক শব্দ ভেসে যায় পাহাড় পর্বত ভেদ করে  গুহার গহ্বরে।


খোদাইচিত্রে বর্ণিত হয় আদিম নারীজন্মের কাহিনি। 

দাঁত, নখ, আর শক্তির  আক্রমণ অত্যাচার যখন শিখর স্পর্শ করে! 

আবারও মনে করিয়ে দেয়,  অমানুষ পৌরুষহীন বর্বরতার পৈশাচিক  অবস্থান। 

মনে করিয়ে দেয়,  নিভে গিয়েও ফিরে ফিরে  জ্বলে ওঠার জোনাকি জীবন।

আর ঠিক তখনই নেমে আসে দুর্নিবার জলপ্রপাত, অপ্রতিরোধ্য ঢেউ, 

ভাসিয়ে নিয়ে যায় সভ্যতার সব অহংকার, 

দুলিয়ে দেয় বসুন্ধরার ভিত, টেনে তুলে আনে নৃশংসতার শিকড়।


 মানুষের ঢল নামে গ্রামে- গঞ্জে, শহর, অরণ্যে   

মানুষ আজ এক টুকরো কাপড়ের খোঁজে;  অভয়াদের লজ্জা ঢাকতে নয়, 

নির্ভয়াদের শরীর ঢাকতেও নয়, তিলোত্তমাদের অপমান ঢাকতে নয়। 

এক টুকরো কাপড় চাই, উলঙ্গ সমাজের লজ্জা ঢাকতে।

 রিক্ত  মনের পৈশাচিক ক্ষত ঢাকতে।

এক টুকরো কাপড়ের খোঁজে, আজ মানুষ  ঘর ছেড়ে পথে।

সঙ্গের ছবিঃ ১৪ আগস্টের রাত্রি, বাঁকুড়া 

৫টি মন্তব্য: