শারদোৎসব তার ১৪৩৩ঃ কবিতা () জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় - কাড়ান ছাতুর পাঁচালি

শহর নগর শারদোৎসব ১৪৩৩

কাড়ান ছাতুর পাঁচালি

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় 


যদি বলি ব্যাঙের ছাতা, করবে সবাই ছিঃ ! ছিঃ ! 

ময়লা খেয়ে বাঁচে ওরা, অখাদ্য, বিষ কী বিশ্রী ! 

যদি বলি, খাদ্য ভালো, অভিজাত মাশরুম

খুঁজে খুঁজে কেনে মানুষ, রান্নার সে কী যে ধুম ! 

যদি বলি, কুড়কুড়ি বা পোয়াল, ফুড়কি, উই

বলবে সবাই, দারুণ ভালো সঙ্গে সরষে- পুঁই।

প্রশ্ন করুন, ছাতুর রাজার নামটা বলুন, দাঁড়ান ! 

দু-চোখ বুজে বলবে সবাই, ছাতুর রাজা কাড়ান।

মাটি ফুঁড়ে ওঠেন রাজা, লাইন দিয়ে যত

তার লোভে সব ভোরবেলাতে হাতড়ে বেড়ায় কত।

কোদাল নিয়ে, গাঁইতি নিয়ে, নানা অস্ত্র হাতে 

মাটি খুঁড়ে হুলুস্থুলু যদি পড়ে পাতে।

জমবে খাওয়া, ঝালদেয়া, ঝোল, বাটি এবং ভাজায়

সড়াক সড়াক ভাত টানবে তৃপ্তমুখে রাজায়।

কেউ বলে তায় দুর্গাছাতু, কেউ বা পাতালফোঁড়

কেউ বা ডাকে অষ্টমী বা শিকছাতু ভুঁইতোড়।

সরষে-পোস্ত বাটিতে হয়, জিরে-লংকা ভাজাও

দারুণ স্বাদে আরও আছে, পুঁইয়ের ঝালে তা দাও।

কচু, বেগুন, ঝিঙে দিয়ে বাটি কতক ঝোল

টানেন যদি গরম গরম, ফুটবে নতুন বোল।


দাঁড়ান ! দাদা দাঁড়ান ! 

দেখুন কেমন লোক জমেছে কিনতে ছাতু কাড়ান।

অহংকারে কেমন চেয়ে, আড়চোখে বিষ বাণ

ভীষণ দেমাক, লম্বা ল্যাজে সাধ্য আছে মাড়ান ? 

নিলাম চলে, টানাটানি, পাড়ায় পাড়ায় জানাজানি

সেই পথে পা বাড়ান ?

আমি জানি পকেট খালি তাই ধরেছি গান

দূর হয়ে যা অহংকারী, ছত্রাক বেইমান ! 

তোকে ছোঁয়ার সাধ্য যে নেই, বুক ফেটে যায় প্রাণ !

কিন্তু এমন দামি কাড়ান, কাড়াকাড়ি চলে

দামের ঠ্যালায় হাত পুড়ে যায়, সবাই 'বাবা' বলে।

গিন্নি বলেন, পাঁচশো হলে সবার পাতে যায়

ভাজতে দিলে বৌমা বেটি চকাম চকাম খায়।

কর্তা বলে, মেরে কেটে দুশো গ্রামই পাবে 

না পোষালে আজই তুমি বাপের বাড়ি যাবে।

দুশো টাকায় শ-গ্রাম মেলে, কিনবে সাধ্য কার ? 

করুণ চোখে তাকিয়ে থাকি, পকেটে নাই ভার।

দেড়শো থেকে একশো কুড়ি, বুক তাই ঢিপঢিপ

ছ-জনে খাই একশো কিনে খাওয়া তো নয় 'টিপ'।

ষাটে এলে তিনশো কিনি, সেদিন আমি রাজা

ঝোলের বাটি বেদম সাঁটি, কয়েকটা খাই ভাজা।

তুমি যদি গরব ছাড়ো ওহে কাড়ান ছাতু

মাথায় তুলে নাচবো সেদিন ধিনতা ধিনা তু-তু।


অলংকরণঃ দেবানন্দ মুখোপাধ্যায় 








৪টি মন্তব্য: