মহাকাব্যে খল চরিত্রসমূহ
(রামায়ণ ও মহাভারত এই দুই মহাকাব্যের কাহিনী নিয়ে গল্প প্রবন্ধ লেখার শেষ নেই। ভারতীয় শিক্ষা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই দুই মহাকাব্যের চরিত্ররা। বাঁকুড়া জেলার প্রিয় সাহিত্যিক অতনু চট্টোপাধ্যায়ের কলমে এবার উঠে এলো ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা রামায়ণের অমর কাহিনীর টুকরো টুকরো অংশ। গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই ধারাবাহিক উপাখ্যান। আজকের পর্বে "মহাকাব্যে খল চরিত্রসমূহ"। প্রতি সোমবার ও শুক্রবার শহর নগর ব্লগজিনে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে এই ধারাবাহিকটি। আজ পর্ব - সতের - সম্পাদক)
সাহিত্যে নায়ক, নায়িকা ছাড়াও পাঠকের দরবারে উপস্থাপিত করা হয় খলনায়ক ও খলনায়িকাদের। এই সব চরিত্রসমূহ গল্প উপন্যাস, নাটক কিংবা যাত্রাপালাতেও হাজির হয়ে থাকে। বর্তমান সময়ের সাহিত্যেও এই ধরনের খল চরিত্র বেশ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কি সিনেমা আর কি টিভি সিরিয়ালে এদের উনস্থিতি বেশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যৌথ সংসার ভাঙা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কু মন্ত্রণা দানের মাধ্যমে এইসব খলনায়ক আর খলনায়িকাদের চরিত্র চিত্রিত হয়ে থাকে।অবশ্য অনেক সময় বাস্তবতার সীমারেখা অতিক্রম করে,পাঠক ও দর্শকদের অনেকসময় বিরক্তির উদ্রেক ঘটায়।
সে যাই হোক, আমরা আমাদের দৃষ্টি নিবন্ধ করব রামায়ণ মহাকাব্যে। তবে রামায়ণে খলনায়ক বা খলনায়িকাদের ভূমিকা ততটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে না, যতটা প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়ে আছে মহাভারত নামের মহাকাব্যে। মহাভারতের খল নায়কের মধ্যে আমরা শুধু একজনের নামই স্মরণে আনি। কিন্তু আরো একজন বিশেষ কুটনীতি বিশেষজ্ঞের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।আর এই খলনায়কের নাম ছিল কণিক বা কণিকা।
কে এই কণিকা? এই কণিকা ছিলেন একজন শাস্ত্রজ্ঞ পন্ডিত। তাঁর কুটনীতিতে ছিল অগাধ পান্ডিত্য। তিনি ছিলেন মহারাজ ধৃতরাষ্ট্রের একেবারে কাছের কুটনীতিবিদ। আর এই কণিকের পরামর্শ মতই ধৃতরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন, যদিও বিদুরের নীতি তিনি শুনতেন কিন্তু গ্রহণ করতেন না। তিনি পুরোপুরি মেনে চলতেন কণিকের নীতি। কি ছিল সেই সব নীতির মূল অংশ। কণিকের নীতিকে চারটি অংশে ভাগ করা যেতে পারে।
একঃ শত্রুর মৃত্যু, তাকে বাঁচিয়ে রাখলেই প্রতি পদে বিপদ।
দুইঃ সাম, দান, দন্ড ও ভেদ নীতিকে গুরুত্ব প্রদান।
তিনঃ ছদ্মবেশ ও ধূর্ততার আশ্রয় গ্রহন।
চারঃ গুপ্তচরবৃত্তি ও সতর্কতা।
পাঁচঃ নিজ স্বার্থ রক্ষার্থে আপনজনকেও পরিহার করা।
এগুলোই ছিল কণিকনীতি। কণিক ছাড়াও আমরা শকুনের নামও খলনায়ক হিসাবে এনে থাকি। কিন্তু আমাদের মহাভারত ছেড়ে আসতে হবে রামায়ণ নামক মহাকাব্যে। রামায়ণে আমরা যে সব খলনায়ক কিংবা খলনায়িকাদের পেয়ে থাকি, তাদের ভূমিকাতে একটা বড়সড় অঘটন না ঘটলেও দায়ী তো অবশ্যই। তবে রামায়ণে যতটা গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে, অতীতের ঘটনা সমূহকে কিংবা ভবিতব্যকে, ততটা গুরুত্ব আরোপ করা হয়নি খলনায়ক কিংবা খলনায়িকাদের ভূমিকার উপর। খলনায়িকাদের মধ্যে দুজন মহিলার নাম উঠে আসে। এদের একজনের নাম হল মন্থরা আর অন্যজন হলেন দ্বিতীয় রাজমাতা কৈকেয়ী। যদিও মন্থরার ভূমিকাই ছিল উল্লেখযোগ্য। দিনের পর দিন কুমন্ত্রণা দানের মাধ্যমে কৈকেয়ীকে উত্যক্ত করে আসল কাজটি করতে সক্ষম হয়েছিল, ততটা দায়ী করা যায় না কৈকেয়ীকে। কেননা তাঁর মাতৃপ্রীতি ছিল রামের বনবাস ও ভরতের সিংহাসন প্রাপ্তির লক্ষ্যে। এক্ষেত্রে তাঁকে খলনায়িকার আসনে অধিষ্ঠিত করা যায় না। তবে বিভীষণকে খলনায়কের মর্যাদা দিতে কোন অসুবিধা হবার কথা নয়। নিজের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে রাবণের সঙ্গ ছেড়ে রামচন্দ্রের পক্ষে যোগদান করাই নয়, বিভিন্ন সময়ে লঙ্কার বিভিন্ন গোপন তথ্য তুলে ধরেছিলেন রামচন্দ্রের কাছে। মেঘনাথের মৃত্যু, রাবণের মৃত্যু- সবক্ষেত্রেই তাঁর পরোক্ষ ভূমিকা ছিল সর্বজনবিদিত।
চিত্র ঋণঃ উইকিপিডিয়া
চলবে

ভালো হচ্ছে। খুব ভালো।
উত্তরমুছুনমায়ের অভিমত আর আমার অভিমত একই।
উত্তরমুছুন