ধারাবাহিক উপাখ্যানঃ জটায়ু কথা ও সীতা উদ্ধার (পর্ব ১২) - অতনু চট্টোপাধ্যায়

  জটায়ু কথা ও সীতা উদ্ধার

অতনু চট্টোপাধ্যায় 

(রামায়ণ ও মহাভারত এই দুই মহাকাব্যের কাহিনী নিয়ে গল্প প্রবন্ধ লেখার শেষ নেই। ভারতীয় শিক্ষা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই দুই মহাকাব্যের চরিত্ররা। বাঁকুড়া জেলার প্রিয় সাহিত্যিক অতনু চট্টোপাধ্যায়ের কলমে এবার উঠে এলো ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা রামায়ণের অমর কাহিনীর টুকরো টুকরো অংশ। গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই ধারাবাহিক উপাখ্যান। আজকের পর্বে "জটায়ু কথা ও সীতা উদ্ধার" । প্রতি সোমবার ও শুক্রবার  শহর নগর ব্লগজিনে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে এই ধারাবাহিকটি। আজ পর্ব - বারো। - সম্পাদক)

(১২)

এই পর্বে সবকিছুই যেন মনে হয় অলৌকিক আর অবাস্তবতার মোড়কে পরিবেশন।মারীচের কন্ঠে লক্ষ্মণ ও সীতার নামে কাতর কন্ঠের আওয়াজ শুনে যখন লক্ষ্মণ সাহায্যের জন্য কুটির থেকে বের হয়ে যায়,তখন যাবার সময় তীরের অগ্রভাগ দ্বারা একটা গন্ডী কেটে দিয়ে সীমারেখা টেনে সীতাকে কোন অবস্হাতেই ঐ গন্ডী না ডিঙোতে অনুরোধ করে।

এখন প্রশ্ন হল, কি সেই লক্ষ্মণ গন্ডী? কেনই বা সীতাকে ঐ গন্ডী অতিক্রম না করার অনুরোধ রেখেছিল, কেন ঐ গন্ডীর মধ্যে অন্য কেউ ঢুকতে সাহস করবে না? এটা কি লক্ষ্মণের নিজস্ব এক পন্থা?সেই পন্থাটাই বা কি? বহুবিধ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এটা কি কোন ঐশ্বরিক ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ? বাংলা বাগধারাতে অনায়াসেই এই "লক্ষ্মণের গন্ডী" স্থান পেয়ে গেছে। সীমারেখা অতিক্রম না করার কথা বলা আছে। হতে পারে লক্ষ্মণ সীতাকে বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করেছিলেন। গৃহের অভ্যন্তরে থাকলে কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না বলেই কি লক্ষ্মণের গন্ডী প্রচলিত?

রাবণ ছদ্মবেশে অর্থাৎ সাধুর ছদ্মবেশে সীতাকে হরণ করতে এসেছিলেন। তাঁর মায়াবী জ্ঞান সম্পর্কে সকলেই অবগত। কিন্তু রাবণ ছিলেন একজন ধার্মিক ও ন্যায় পরায়ন। তিনি এমন কিছু কাজ করবেন না, যেটা শাস্ত্র বিরূদ্ধ । তাহলে কি লক্ষ্মণ আগেই অনুমান করেছিল যে রাবন আসতে পারেন? অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।

যাইহোক,পরবর্তী কালে রাবণ সীতাকে গন্ডী ছেড়ে বেরিয়ে ভিক্ষা দিতে বললে, তিনি তাঁর নিজমূর্তি ধারন করে অট্টহাসি হেসে সীতাকে অপহরণ করে নিয়ে চলে যান।সীতার কাতর আর্তনাদে বনের পশুপাখি সকলেই বিচলিত ও শঙ্কিত হয়ে উঠলেও, কেউ সাহায্যের জন্য রাবণের মুখোমুখি হবার সাহস দেখায় নি। এই করুণ আর্তনাদ শুনে পক্ষীকুলের রাজা জটায়ু রাবণের পথ আগলে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করতে শুরু করেন। জটায়ু বলতে বৃহৎ পক্ষী তথা চিল কিংবা শকুন হতে পারে। এই পক্ষীরা বর্তমান দিনেও উঁচু আকাশে উড়ে চলে। বিমানের সাথে ধাক্কাও হয়।ৎজটায়ু সেইভাবেই হয়ত রথকে কাবু করে রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অসম যুদ্ধে জটায়ু পরাজিত হয় ও তার ডানা কেটে নেওয়া হয়। কে এই জটায়ু? রামায়ণের কথা অনুযায়ী এই জটায়ু ছিলেন দশরথের মিত্র। অর্থাৎ এই পক্ষী বাহিনী ছিল দশরথের মিত্র শক্তি।

চলবে

৫টি মন্তব্য:

  1. শ্যামাশঙ্কর বরাট১৬ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৩:৩৫ PM

    অতনু দা'র বর্ণনায় রামায়ণের পুনরালোচনা সকল প্রকার পাঠককে অভিভূত করবে , আশা করা যায়। চিরায়ত কাহিনীর বা উপাখ্যানের অংশ রামায়ণ সুলভ ব্যক্ত হয়েছে । তথাপি তার সাথে লেখকের ভাব ভাবনা নিজস্বতার নিরিখে বর্ণিত হয়েছে । স্ব মিলিয়ে আলোচনা মূলক রামায়ণ কাহিনী আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

    উত্তরমুছুন
  2. সুন্দর সুন্দর। মনোজ্ঞ।

    উত্তরমুছুন
  3. মাননীয় সন্তোষ ভট্টাচার্য সম্পাদিত শহর নগর ব্লগ শারদ সংখ্যা ১৪৩৩। পেলাম।
    সম্পাদক মহাশয়কের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ভালোবাসা। যত্ন সহকারে সমস্ত লেখাগুলি পড়বো।
    এই সংখ্যায় এই সংখ্যার সমস্ত লেখক কবি প্রাবন্ধিকদের আমি সম্মান জানাই শ্রদ্ধা জানাই ভালোবাসা জানাই শারদ শুভেচ্ছা।

    উত্তরমুছুন
  4. পৌরাণিক গল্পে অলৌকিকতার সাহায্য
    নিয়ে বিস্তার লাভ করে কাহিনি । শাখা
    প্রশাখা মেলা সম্ভব হয়। এর মধ্যে যুক্তি
    খুঁজতে গেলে নিরাশ হতে হবে । সাগর
    পার হয়ে রাবণের আসা অবাস্তব । কিন্তু
    গল্পের চাহিদায় এই ঘটনা অবশ্যম্ভাবী।

    উত্তরমুছুন
  5. খুব সহজ সরল করে লিখছেন , ভালো লাগছে।

    উত্তরমুছুন