উৎসবের মরশুমে পাঁচালী চলচ্চিত্রমের শর্ট ফিল্ম ‘বৃত্তের বাইরে'-র প্রিমিয়ার শো
শহর নগর প্রতিবেদন, বাঁকুড়াঃ নাটক তাঁদের পেশা নয়, নাটক তাঁদের নেশা। আর সেই নেশা থেকেই থিয়েটারকে বাঁচিয়ে রাখার অদম্য তাগিদে বাঁকুড়ার মাটি থেকে বিশ্বদরবারে নিজেদের সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রাখতে ধীর পায়ে এগিয়ে চলেছেন বাঁকুড়ার একদল নাট্যপ্রেমী। তাঁদের সেই সাংস্কৃতিক যাত্রার নতুন সংযোজন বাংলা শর্ট ফিল্ম ‘বৃত্তের বাইরে’। গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার সন্ধ্যায় বাঁকুড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে এই ছবির পোস্টার প্রকাশ অনুষ্ঠান ও প্রিমিয়ার প্রদর্শনী হলো। নতুন গল্প, সংবেদনশীল উপস্থাপনা এবং মানবিক সম্পর্কের গভীর আবেদন নিয়ে নির্মিত ছবিটি প্রিমিয়ার শোতে উপস্থিত দর্শকদের মনে বিশেষ ছাপ ফেলেছে ।
বাঁকুড়ার কামারারমাঠ স্বাস্থ্য অনুশীলন সংঘের সাংস্কৃতিক শাখা পাঁচালী নাট্যগোষ্ঠী চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রয়াসে 'পাঁচালী চলচ্চিত্রম' এর আত্মপ্রকাশ। তাদের নির্মিত 'অনর্থ’-এর সাফল্যের পর নতুন গল্পে তাদের এই ‘বৃত্তের বাইরে’ নির্মাণ। বাঁকুড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবী কামারারমাঠ স্বাস্থ্য অনুশীলন সংঘের সহ-সভাপতি গৌতম মুখার্জী (নোটু) এদিনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন । উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক সাগর কর্মকার-সহ অন্যান্য বিশিষ্টজন ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
উদ্যোক্তারা বলেন পাঁচালী চলচ্চিত্রমের এই উদ্যোগ শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রচেষ্টা নয়, বরং মফঃস্বলের সাংস্কৃতিক পরিসরে স্বাধীন চলচ্চিত্র চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক আন্তরিক পদক্ষেপ। সীমিত পরিসর ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেদের শিল্পসত্তাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে একটি নাট্যদল চলচ্চিত্র নির্মাণের মতো বড় উদ্যোগ বাস্তবায়িত করতে পারে, ‘বৃত্তের বাইরে’ তারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
পাঁচালী চলচ্চিত্রের পক্ষে জানানো হয় যে তাদের প্রথম শর্ট ফিল্ম ‘অনর্থ’ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে প্রশংসা ও পুরস্কার অর্জন করেছে। কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-তে ছবিটি দু’বার এবং নন্দনে চারবার প্রদর্শিত হয়েছে। প্রথম ছবির এই সাফল্য তাঁদের সদস্যদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করেই এবার সম্পূর্ণ নতুন গল্প নিয়ে তাঁদের দ্বিতীয় প্রয়াস ‘বৃত্তের বাইরে’ বলে তাঁরা জানান।
ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন হেমন্ত সরকার। তিনি শুধু এই ছবির অন্যতম প্রধান অভিনেতাই নন, পাঁচালী নাট্যগোষ্ঠীর কর্ণধার এবং কামারার মাঠ স্বাস্থ্য অনুশীলন সংঘের সাংস্কৃতিক সম্পাদকও। দীর্ঘদিনের নাট্যচর্চা ও অভিনয়-অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ‘বৃত্তের বাইরে’-তে চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলেছেন।পাশাপাশি এই ছবিতে অভিনয় উত্তম বসাক, যিনি ইতিপূর্বে ‘অনর্থ’ ছবিতে অভিনয় করে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন বলে তাঁদের দাবি। এছাড়াও রয়েছেন সুরজিৎ দাস মোদক, শুভদীপ দত্ত, মৌমিতা দালাল, কুসুম দত্ত, ভাস্বতী পাত্র পাইন এবং শিশু শিল্পী সার্থক সেন। প্রত্যেকেই নিজেদের অভিনয়ের মাধ্যমে ছবির গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
‘বৃত্তের বাইরে’-এর কাহিনি, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনার দায়িত্ব সামলেছেন ইন্দ্রনীল মুখার্জী। তিনি জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক হওয়ার পাশাপাশি একজন সঙ্গীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার ও অভিনেতা। এই ছবির থিম সং ‘বৃত্তের বাইরে এসো’-র কথা ও সুরও তাঁরই সৃষ্টি। ছবিতে অভিনয়ও করেছেন তিনি। কাহিনীর বিষয়বস্তুর গভীরতা ও আবেগের নিরিখে ‘বৃত্তের বাইরে’ পাঁচালী চলচ্চিত্রমের প্রথম ছবি ‘অনর্থ’-এর সাফল্যকেও ছাপিয়ে যেতে পারে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।
ছবিটি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পাশাপাশি জয়পুর, দিল্লি, পুনে, মুম্বই ও বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও ছবিটি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
বাঁকুড়ার মতো একটি জেলা শহর থেকে নির্মিত বাংলা শর্ট ফিল্মের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে পৌঁছনোর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে জেলার সাংস্কৃতিক পরিসরের কাছে উৎসাহব্যঞ্জক। এর মাধ্যমে স্থানীয় প্রতিভা, নাট্যচর্চা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনাকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সংযোজন ছিল ‘বৃত্তের বাইরে’-এর থিম সং ‘বৃত্তের বাইরে এসো’-র ডিজিটাল মুক্তি। ছবির ভাবনা ও আবেগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গানটি নির্মিত হয়েছে। গীতিকার ও সুরকার ইন্দ্রনীল মুখার্জীর এই গান শ্রোতাদের কাছে ছবির মূল বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চলচ্চিত্রটির প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
এখন দর্শকদের কাছে ছবির গল্প ও গান পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে বৃহত্তর দর্শকসমাজের সামনে নিজেদের কাজ তুলে ধরাই পাঁচালী চলচ্চিত্রমের অন্যতম লক্ষ্য বলে উদ্যোক্তারা জানান।


ভালো কাজের প্রত্যাশায় রইলাম।
উত্তরমুছুনপ্রত্যক্ষ করার আশাতে থাকলাম।বাঁকুড়াবাসী হিসাবে পরিচালক,প্রযোজক সহ সমস্ত কলা কুশলীদের জানাই অভিনন্দন।
উত্তরমুছুনঅতনু চট্টোপাধ্যায়
মন ভালো করা খবর । এরকম আরো খবরের অপেক্ষায় রইলাম ।
উত্তরমুছুনকেতকী বাগচী সল্ট লেক
কলকাতা