শারদোৎসব ১৪৩৩ঃ অণুগল্প- অপেক্ষা () দেবানন্দ মুখোপাধ্যায়

শহর নগর শারদোৎসব ১৪৩৩

 অপেক্ষা 

দেবানন্দ মুখোপাধ্যায় 

বাস থেকে নেমেই সরসিজ দৌড় দেয় বাড়ির উদ্দেশ্যে ৷ অকাল বৃষ্টি এখন মাঝে মাঝেই হচ্ছে কোনো আগাম সঙ্কেত ছাড়াই, আজও তাই, হবে জানলে তো ছাতা নিয়ে বার হোতো ৷ সকালে খটখটে রোদ দেখে কে বলবে সন্ধ্যায় এ রকম বানভাসি বৃষ্টি হবে ? গড়িয়ার এই বাড়িটা কয়েক সপ্তাহ হোলো ভাড়া নিয়েছে সরসিজ কাজের সুবিধার জন্য ৷ চাকরির সুবাদে বাঁকুড়ার বাড়ি ঘর ,বৌ ছেলেকে রেখে এখন এখান ডেরা বেঁধেছে ৷ একটু থিতু হলেই ওদেরও নিয়ে আসার পরিকল্পনা আছে ৷

সে কথা থাক্ এখন ,আপাততঃ ভিজতে ভিজতে দরজার তালা খুলে সরসিজ ঘরে ঢুকতে যাবে ওমনি দুম করে বিদ্যুৎ চলে গেলো৷ ঈদানিং লোডশেডিংটা মাঝে মাঝেই হচ্ছে এ পাড়ায় ৷ এমনিতে মাত্র ক'দিন হোলো এই বাড়িতে আসা, এখনও সড়গড় হয়নি বাড়িটার সাথে। কোথায় চেয়ার কোথায় টেবিল, কোথায় আলনা এখনও অন্ধকারে ঠাহর করার মতো সময় বাড়িটায় কাটায়নি। শুধু এটুকুই মনে থাকে দরজা খুলে ঢুকলেই বাঁ দিকে লাইটের সুইচ৷ তবে এই লোডশেডিংএ মনে থাকলেই আর না মনে থাকলেই বা কি!  ভিজে যাওয়া হাতে মোবাইলের আলো জ্বালবে তারও উপায় নেই, একে সেটাও ভালোই ভিজেছে আর বাজ পড়ছিলো বলে সেটাকে বন্ধ করে রেখেছিলো বাসেই ৷ মোবাইল খোলার সাহস হোলোনা ৷ ভাগ্যিস বাড়িওয়ার উপদেশ মতো দু'টো মোমবাতি কিনে রেখেছিলো ৷ তা সে তো টেবিলের ড্রয়ারে ৷ সকালেই শুনেছিলো পাড়ার মোড়ের ট্রান্সফর্মারটার অবস্থা খুব খারাপ, একবার বসে গেলেই দু'তিনের ধাক্কা৷ তাই হোলো নাকি?

অগত্যা আশঙ্কা মাথায় নিয়েই অন্ধকারে হাতড়াতে হাতড়াতে এক সময় টেবিলের কাছে ঠিক পৌঁছে গেলো, ড্রয়ার টেনে একটা মোমবাতিও হাতে এলো ৷ পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট আর দেশলাই বাক্সটা বের করে সরসিজ ৷ দুটোই একদম ভিজে একসা৷ তবুও দেশলাই বাক্সর মধ্যে আঙ্গুল চালিয়ে যেটা অপেক্ষাকৃত শুকনো মনে হোলো সেটা জ্বালাবার চেষ্টা করলো, জ্বললো না ৷ তারপর আর একটা, নাঃ সেটাও জ্বললো না৷ তারপর মনে পড়লো বাক্সর বারুদও তো ভিজে গেছে৷ তবুও আর একটা জ্বালাবার চেষ্টা করলো......আরও একটা ...আরও একটা ...কোনোটই সফল হয়না।

সময় কটে যায় , সরসিজ এখন অন্ধকারের মধ্যে চেয়ারে বসে আছে একহাতে মোমবাতি আর একহাতে ভিজে দেশলাইবাক্স নিয়ে ......

বারুদ শুকাবার বা বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায় ............................ 

অলংকরণঃ দেবানন্দ মুখোপাধ্যায় 

৮টি মন্তব্য:

  1. আরো একটু সাসপেন্স আশা করেছিলাম।
    অতনু চট্টোপাধ্যাস্ক্র

    উত্তরমুছুন
  2. আরো একটু সাসপেন্স আশা করেছিলাম
    অতনু চট্টোপাধ্যায়

    উত্তরমুছুন
  3. গল্পটা শুরু হয়েছিল বেশ। একটা উৎক্ণঠা জাগিয়ে তোলা। নতুন বাড়ির ভাড়াটে বৃষ্টি হঠাৎ লোডশেডিং অন্ধকার; এর পর কী হয়? শেষ করে মনে হল কী একটা যেন বাদ পড়ল। লেখক নিজে ভেবে দেখুন সেই বস্তুটি কী। মেঘ মুখোপাধ্যায়

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. যখন নিজে থেকে জ্বলে ওঠার শক্তি সাময়িক ভাবে নষ্ট হয়ে যায় তখন অপেক্ষা করা ছাড়া আর কি করার থাকে?

      মুছুন
  4. আমরা সবাই ভিজে দেশলাই কাঠি,কবে জ্বলবো ,আলো জ্বালবো জানিনা।

    উত্তরমুছুন
  5. ভেতরের আলো , বাইরের আলো,কোনটা যে ভালো ?কোনটা যে ভালো!

    উত্তরমুছুন
  6. কেমন যেনো ঝপ করে শেষ হলো। মনে একটা অতৃপ্তি রয়েই গেলো।

    উত্তরমুছুন
  7. গল্পটি উপভোগ্য, তবে উপসংহারে একটি বার্তা যখন আছে, তখন বলি, অন্ধকারে বসে না থেকে প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটি মোমবাতি বা দেশলাই ধার নেওয়া যায়।
    কেতকী বাগচী, সল্ট লেক কলকাতা।

    উত্তরমুছুন