ধারাবাহিক প্রবন্ধঃ অগ্নিশপথ - ৬১ () সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

   অগ্নিশপথ

সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

(স্বাধীনতা' - শৈশব থেকে এই একটা শব্দ যে আবেগ, যে অনুভূতির সৃষ্টি করে, দিনে দিনে তা কেমন যেন বদলাতে শুরু করে। সময়ের সাথে সাথে রাজনৈতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের বদলের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা না থাকলে স্বাধীনতার স্বাদ অধরাই থেকে যায়। এখন আবার কে কতো বড় সেক্যুলার তার প্রমাণ করার প্রতিযোগিতায় ধর্মের দণ্ড হাতে ক্ষমতা ধরে রাখার এই যে নিরন্তর প্রচেষ্টা তা আমাদের দেশের স্বাধীনতার জন্য অগ্নিযুগের আন্দোলনকে কলুষিত করছে, রাষ্ট্রের পরিবেশকে চরম আঁধারপথে ঠেলে দিচ্ছে। এই অন্ধকারময় সময়ে একটু আলোর সন্ধানে আমরা ফিরে দেখি অগ্নিযুগের সেই আগুন পাখিদের কর্মকাণ্ড। গত  বছরের ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ ধারাবাহিক প্রবন্ধ - 'অগ্নিশপথ' ।  প্রিয় সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমে উঠে আসছে সেই অগ্নিযুগের কাহিনি এবং আগ্রহী পাঠকদের সামনে আমরা তুলে ধরছি। আজ একষট্টি পর্ব - সম্পাদক ।) 

বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন তীব্রতর গতিতে ছড়িয়ে পড়লো অখন্ড বাঙলা এবং প্রতিবেশী জেলার কোনায় কোনায় । আরও জোরদার এই সশস্ত্র সংগ্রামের বিপ্লববাদ‌কে পূর্ণতা দানের জন্য বহু বিপ্লবী , তরুণ যুব - ছাত্রদল কোলকাতা, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া সহ বিভিন্ন প্রান্তে চলে এলেন স্বেচ্ছায়। তারা বিভিন্ন বিপ্লববাদী সংগঠন ও তার শাখা সংগঠনে যোগ দিলেন শুধুমাত্র দেশমাতার মুক্তির লক্ষ্যে। সশস্ত্র সংগ্রামের প্রেক্ষাপট ও গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনার মাঝে পূর্বেকার কৃষক সংগ্ৰামের কাহিনিতে একটুখানি চোখ বোলানো দরকার। কারণ এই ব্রিটিশ বিরোধী বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের ভিত্তি ভূমিটি ভীষণভাবে শক্ত পোক্ত । স্থানীয় রাজা, জমিদার কিম্বা পত্তনিদার, সামন্তগণ সুযোগ খুঁজছিলেন লড়াইয়ে সামিল হতে । বিপ্লববাদের প্রথম মশাল হাতে এগিয়ে এসেছিলেন জঙ্গলমহলের প্রতারিত, ব্রিটিশ কুটচালের চক্রান্তে ছোট বড়ো জমিদারি হারানো সেই সব ভূম্যাধিকারীগণ। 

জঙ্গলমহলের শান্তির বাতাবরণে ছড়িয়ে পড়লো স্বত্ত্বাধিকার হারানোর হাহাকার। বসে রইলেন না ক্ষমতা হারানো রাজা, জমিদার কিম্বা ভূম্যাধিকারীগণ। বিদ্রোহের আগুনের লেলিহান শিখা প্রথম ছড়িয়ে পড়লো "ধলভূম" নামে পরিচিত জঙ্গলমহলের দুই ভূখন্ডে। ১৭৫৭ র ২৩ জুন পলাশীর আমবাগানের প্রান্তরে বাঙলা তথা ভারতের স্বাধীন সূর্য অস্তমিত হয়ে গেল। মোগল আমলেও ছিল রাজস্ব প্রদানের স্বাধীনতা। তারা ঘাঁটাতে সাহস বা দুঃসাহস কোনোটাই করতে যায়নি আগবাড়িয়ে। কারণ মোগল প্রশাসনিক এবং তাদের ভূমি রাজস্ব বিভাগ জানত এই ভূখণ্ডের প্রতিকুলতার কথা। রাজস্ব আয়, কর কাঠামো ও ভূমি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা কি দুঃসাধ্য কাজ। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রশাসক ও সেনাকর্তাদের দখলদারি অভিযান শুরু হয়ে গেল। রাজস্ব নীতি নির্ধারণের লক্ষ্য নিয়ে বাঁকুড়া, ঝাড়গ্ৰাম, মেদিনীপুরে হয়ে ধলভূমগড় পর্যন্ত সেনা শিবির ও অভিযান শুরু হলো। জঙ্গলমহলের সম্পদশালী ভূম পরগণাগুলোয় পা রেখে তাদের চোখে কপালে উঠে গেল।

চলবে 

৩টি মন্তব্য:

  1. লেখাটা পড়া শুরু করতে করতেই শেষ হয়ে যায়।আজকের পর্বে মেদিনীপুর থেকে বেরিয়ে এসেছো।অভিনন্দন জানাই

    উত্তরমুছুন
  2. স্যার, অসম্ভব ব্যাথা ঘাড় থেকে কোমর । তার উপর মোবাইল ভেঙে গেছে গতকাল।

    উত্তরমুছুন
  3. এত সুন্দর একটা ধারিবাহিক যেটা বাঙালী জাতিকে গর্বিত করে,সেই লেখা পড়ে আমাদের পাঠ প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি কই?লেখক তার মন প্রাণ উজাড় করে লিখছেন।সম্পাদক

    নিয়মিত প্রকাশ করছেন।আমার তরফে দুজনার জন্যই থাকল শ্রদ্ধা
    অতনু চট্টোপাধ্যায়

    উত্তরমুছুন